মায়াবতী মধুমতি

মায়াবতী মধুমতি

গঙ্গার অঙ্গ থেকে উৎসারিত

পদ্মার আদরিনী মেয়ে - স্রোতস্বতী মধুমতি

নিরন্তর বহি চলে - যুগযুগান্তর ধরে - ছন্দিত পায়ে

দয়িতের অভিসারে সাগর অভিমুখে -

চুমি চুমি শ্যাম বনভূমি ।

রৌদ্র করোজ্জ্বল ‍‌অথবা শান্ত সুশীতল ছায়া তল মায়াময়ী

পুণ্যময়ী স্নান ঘাট, উদাসী বিজন মাঠ ,

স্নিগ্ধ শ্রী রূপসী বাংলার ।

সাগর বেলায় মিলন মেলায় - চিত্রা হরিনীর চিত্তবিহারিণী

মোহন নৃত্য আবাহন শাশ্বত সুন্দর অবিনশ্বর ।

এই মধুতটিনীরে ঘিরে ,কত জনপদ উঠিয়াছে গড়ি,

জড়াজড়ি করি আপন মহিমায় -__

উহাদেরই ভিড়ে পাতার কুঠিরে মাটির প্রদীপ জ্বেলে

সপ্ননীড় বেঁধেছিল কোন এক গাঁয়ের বধু মধুমতি,

রুপবতী মায়াবতী যুবতী অনন্যা -

ঘরকন্না হলোনা তার - এ কেমন বিধিলিপি !

যৌবন মাধবী লগ্নে নির্বিচার ধ্বসে গেল জীবনের ভিত

পুরুষতমাল তরু অবলা সুহৃদ - দুরারোগ্য কঠিন পীড়ায় -

নদী ও নারীতে কী মিল রেখেছো বিধি - কে জানিত তা

নদী সনে ছিল তার অঢেল সখ্যতা হৃদ্যতা জানাজানি অফুরান

নদীতে নিত্য সে করিতো স্নান বেলা অবেলায় ।

কত গান শোনাত সে নদী কুলে এসে উদাসীন বেশে,

রাতের শেষে তারাভরা আকাশের তলে,

পূর্ণিমায় অথবা ঘোর আমানিশায় -

কল কল নদী জলে অবগাহন প্রাশান্তিময়

সুখ তার উচ্ছাসিত হতো লীলাময় জলকেলিতে ।

এক দিন ঊষার আলোয় -

দেখা গেলো মধুমতি -মরে পরে আছে নদীর চড়ায়

জোয়ারের জলে ভেসে,পরিধেয় পট্টবাস অসংবৃত স্থলিত প্রায়-

ঘনকালো অগোছালো চুলে জীবনের সুগভীর মায়া

জনপদে রব- মধুমতির একি অলুক্ষণে পদস্থলন !

মধুমতি ছিল নাকি অতিশয় সতী -

কী জানি কী দুর্মতি হলো তার , যুবতী মধুমতি

হয়তো লোক গঞ্জনা সইতে নারি

এদুর্গতি বরিল কপালে অথবা নিষ্ঠুর নিয়তি

নদী জলে লিখে দিলো এ কোন লিখন !

এ সবই কোন এক কালের কথন

উপকথা হয়ে আছে আজও

মধুমতি নদী নয় যেন সে প্রকৃতির আশিষ কন্যা

জলধারা হয়ে প্রবাহিত এই বাংলার বুকে ।