বিষণ্ণ কার্ত্তিকের শেষে

বিষণ্ণ কার্ত্তিকের শেষে

 

বিষণ্ণ কার্ত্তিকের শেষে বর্ষার জল নেমে গেলে

জেগে ওঠে ডুবে থাকা বনতল  সদ্যস্নাতা মাতা

বসুমতী – শ্যাওড়ার বনে , কাঁটা ঝোপে বুনো লতায়

পিপুলের ডগায় পাতা গজায় সোনালী রোদের ছোঁয়ায় ।

উদোম গায়ে অবাধ খেলা করে বালকেরা বয়সীরা

এ সময় দারুন সজাগ সন্তানের বুকে আগলে রাখে

ভেদবমি গুটি বসন্ত মহামারি অলক্ষুণে রোগ বালাইয়ের ভয়ে

নিদান তরানো কবিরাজের ঝাড় ফুক মন্ত্র পড়া

হরিতকি বেঁধে দেয় কোমরে সুতায় পরম নিষ্ঠা ভরে

শুভাঘী সব্জন – অসাধারন বাধা নিষেধ আষ্টে  পৃষ্ঠে

ঝুলে থাকে সকলের ঘরে ঘরে

কুকুরের কান্না – শুকনা ডালে ডালে কা থেকে থেকে

হুতোম পেঁচার ডাক অশুভ সঙ্কেত মায়ের বুক

কেঁপে উঠে বার বার অজানা আসঙ্কায় ।

দোয়া পড়ে ফু দেয় সন্তানের চোখে মুখে বুকে কেউবা

হরিনাম জপে অমঙ্গল তারায় ।

এই দুস্কলে গাঁয়ের লোকে – শিন্নী দেয় ছাগল বকরী

মানত করে – জন প্রতি সোয়াসের চাল পাঁচ সিকে

পয়সা সন্তানের গা মুছে বকশিয়া দেয়

সদরালী ফকিরের আস্তানায় দরগায় ।

লোকে বলে সদরালী ফকির অলৌকিক ভাবদায়ে

এক দিন বনে যায় দেয়ান ফকির ঠাই লয় গাছ তলায়

যে যা চায় “ কাউয়া ” বলে ফু দেয় – রোগ বালাই সব

দূর হয়ে যায় ফকির এর অপার মহিমায় – জলন্ত বিশ্বাস ।

খাল পারে পাখি ডাকা ছায়া ঢাকা সুশীতল চত্বরে

গড়ে ওঠে সদরালীর আস্তানা লীলা ভুমি অলৌকিক ।

গাছে গাছে ঘেরা স্নিগ্ধ ছায়াতল যজ্ঞ ডুমুর পীঠে পাড়া

গাছের শিকরে শিকরে অচ্ছেদ্য বন্ধন মায়াবী দুদন্ড

দাড়ালে হেথা শান্তির সম্মোহন মিলে অযাচিত ভাবে

কবে কোন কালে সদরালী ফকির দেহ ত্যাগ করে

চলে গেছে  এ কালের মানুষেরা সঠিক জানেনা ।

যজ্ঞ ডুমুরের সজীব কাণ্ড মাতিতে সমান্তরাল

পড়ে আছে যেন ফকিরের প্রতিকী  উপস্থিতি অবিকল ।

অকৃত্তিম ভক্তিতে দুধ ঢালে এই গাছের গুড়িতে

নিদান তারাতে গাঁয়ের লোক ।

 

গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকা বুনলতায়

না না বর্ণের ত্রিকোননিশন  – সুন্দর শোভ মান ।