ধান সভা বিলের পারে

ধান সভা বিলের পারে

যতদূর চোখ যায় শুধু দেখা যায়, অবারিত ধু ধু মাঠ,

নীল নীল গগন ললাট, খালেবিলে ভরা , নিচু ভূমি,

খালের ধার ঘেঁষে – নলখাগড়ার ঝোপ, কলমা গাছের সারি,

কচুরিপানা – অবিন্যস্ত,কোথাও বা পানকৌড়ি,

সাদা বক, কানাকুয়া ডানা ঝাপটায় -কাদা জলে,মাছ ধরে খায় অবাধে,

হাটি হাটি, পা পা করে অতি সাবধানে,বিলের মাঝে ফালি ফালি উঁচু গ্রাম

শ্যামল সবুজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ঠায় , নিঝুম নিরালায় , দৃষ্টির সীমানায়,

গ্রামের নামাতেই নিচু ডোবার পাশে বাড়ির ঢালে

দু’ একটি মাথা ভারী হিজল গাছের সদরপ উপস্থিতি,

পাখ পাখালির নিরাপদ আশ্রয়, এই হিজল শাখায়

দিনরাত হেথায় পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ বড় অদ্রিত শোনায়-

হেথায় নীর খুঁজে ঝড়ের পাখিরা সময়ে অসময়ে–

ধূসর কালো এই জৈব মাটিতে,তাজা সবুজ পানকচুক্ষেত দৃষ্টি কাড়ে,

উদোম গায়ে গামছা পরনে গেরস্থ দারুণ ব্যস্ত – আগাছা নিরাতে, ,

কখনোবা ক্লান্ত দেহে ঘরে দেরে ,দূর কোন ফসলি মাঠ থেকে-

অবলীলায় জলে নেমে গা ধয়,কাদা মাটি ছেড়ে পরম নিষ্ঠা ভরে,

এইসব মানুষের জীবনের পাশে, বিলের প্রান্ত ঘেঁষে, উচ্চ মাটির পাতালে,

দেখা যাবে একখানি পুরনো দালান পলেস্তারাহীন, মাঝে মাঝে খসে গেছে ইট,

দালানে সবুজ শেওলা, বটের ঝুরি নিয়েছ ঠাই, অবলীলায়,

সেই বিদ্যামান কুঞ্জপিট,লক্ষকেসি বৃদ্ধার আনন্দ ঘর,সুখের বাসর অবিনশ্বর বিরাজে,

 

মনে পরে —–

লাঠি ঠুকে ঠুকে,ভর দিয়ে বুকে, অসীম আসিস নিয়ে,শ্রেণিকক্ষে,

অলক্ষ্যে, ঢুকে যায় –  চেতনে অবচেতনে,আবার বেরিয়ে আসে আনমনে,

এই সেই দেবী মূর্তিমতী মা, বিন্দুবাসিনী শ্রদ্ধেয় জননী- সুদর্শিনী গরীয়সী,

বিন্দুবাসি মায়ের ঢেউ টিনের আটচালা ঘর হয়েছে স্কুল,

নিকটে উঠোন – চারিধারে গাঁদা, শিউলি, জবার,হাসি অমলিন,

উঠানে ছড়ানো শুকনো বরই বিদ্যার্থীর রসনার খোঁড়া অতি প্রিয়,

বিন্দুবাসিনী স্বর্গবাসী হয়েছে হয়তোবা কতকাল আগে

তবু মনে pore নারী মহীয়সী মুখচ্ছবি–