জলা ভুমির জলছবি

জলা ভুমির জলছবি

এই যে লাজুক মেয়ে গঙ্গা – না হয় চুপি চুপি কানে কানে সঙ্গোপনে বলতে

তোমারও বড়ো ইচ্ছে  ছিল – পথ চলতে চলতে কোন ও একদিন

মিলে যাবে ব্রহ্মপুত্রের সাথে আর  তোমাকেও বলি তুমি

এতযে খেয়ালী কে জানতো আগে – সেই যে হেয়ালী করে

দয়িতারে ফেলে কোথায় অভিমানে চলে গেলে  

আবার ফিরে এলে হৃদয়ের টানে    — মিলে গেলে প্রিয়তমা গঙ্গার সাথে–

অদ্ভুত রসলীলা ! তারপর উপহার দিলে বা সৃজিলে সুকন্যা অনন্যা

রক্তেবহা  পললে !সেই তো আমাদের রূপসী বাংলা সুজলা

সুফলা শস্য শ্যামলা নদী  বিধৌত সুবর্ণ বদ্বীপ – যেথা জ্বলে অন্তরপ্রদীপ

অনির্বাণ   — কান পেতে শুনি হেথা ভাঙ্গা গড়ার গান

সুখ দুখ যেথায় যেটুক থাকুক সৃষ্টিরে লয়ে নদ নদী  অনন্ত কৌতুক

আ সমুদ্র হিমাচল জুড়ে     জলস্থল ভাগা ভাগি করে আছে অনাদি

কাল ধরে   এই খানে এই বাংলায় অলৌকিক মহিমায় । অগত্যা

ইতিহাস বেত্তারা বলবে এই তো রামপালে

এক কালে ছিল সমৃদ্ধ রাজধানী  – বাংলার বল্লাল সেন ছিল

রাজা তখন কার    – এই যে বিস্তৃত জলাশয় অরণ্য ঘেরা উচু পাড়

এই তো দিঘি । সিপাহী পাড়ায় আদম শাহী মসজিদ এখনো

দাঁড়িয়ে ঠায় সুলতানী আমলের সুচনায় যার ভিত রচিত

প্রাকার বেষ্টিত ইদ্রাকপুরের দুর্গ আজো বিদ্যমান

রাজধানী সুরহ্মিত ছিল সুগভীর পরিখায় একটি প্রাচীন মরাগাছে

উঁচু ডিবির এক কোনে রয়েছে দাঁড়িয়ে ঠায়

ওই গাছে বাধা থাকত বল্লাল সেন এর ঘোড়া ,

কেবা কাহারা সিঁদুর পরায়েছে গায় ভক্তির পরম পরাকাষ্ঠায় —

বজ্রযোগিনীর পন্ডিতের ভিটেয় জন্ম লভে অতীশ দীপঙ্কর

নালন্দার অধ্যক্ষ পণ্ডিত সুদুর সুমাত্রাজাভা তিব্বত যার জ্ঞান গর্বে গর্বিত

সহস্র বর্ষের ইতিহাসে বিধৃত বাংলার সোনালি অতীত

ইশা খার রাজধানী জঙ্গলবাড়ি সোনারগা ,পানাম নগরী,

ইবনে বতুতা , হিউয়েন সাং , বার বার মনে পড়ে আর কবে

সৌদি আরবে বাংলার সূলতান দিয়েছিল অকৃপান দান মাদ্রাছা প্রতিষ্ঠায় ,

সগৌরবে পড়িবে মনে যুগ পরম্পরায় –

বাংলার মসলিন আজো হয়নি বিলীন বাঙ্গালী নারী পড়নে ঢাকাই শাড়ী

সমহিমায় সুস্মিতা ,  সুচরিতাষু অপরুপ মেধা ও মননে সম্মোহনে,

বরেন্দ্র ভূমিতে তিস্তা করতোয়া আত্রেয়ীর জল ছবি দৃশ্যমান পুণ্ড্র

বর্ধন , পাহাড় পুর , মহাস্থান গড় বৌদ্ধ বিহার

আমাদের অতীতের অহংকার —

চাদ রায়, মুকুন্দ রাম সীতা রাম নদী গর্ভে বিলীন

পদ্মা তাই কীর্তি নাশা –  কোটালি পাড়ায় গোপচন্দ্রের চন্দ্র বর্মন কোট দুর্গ

বর্মণ রাজ বংশের স্মৃতি নিয়ে দাড়িয়ে আছে পাশেই চন্দ্রদ্বীপ

আজো লোকের মুখে মুখে ফেরে । টলেমির তাম্রলিপির  দীপ্তি নিয়ে

কোটালি পাড়ায় ছিল সমৃদ্ধ নগরী প্রাচীন কালের বঙ্গ রাজ্য

গঙ্গা রিডাই অথবা গঙ্গা ৠদ্ধি বলে কালের কপোল তলে  অনির্বাণ জ্বলে ।

মহাবীর আলেকজেন্ডার আর তার

দুধর্ষ সেনার দল গঙ্গা বৃদ্ধির শৌর্য্য বীর্য শ্রবনে স্তব্ধ হয়

মহা ভারতের যুদ্ধে বঙ্গ রাজ্য প্রধান হস্তী আরুঢ়

হয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে কৌরবের পক্ষ নেয় সগৌরবে বীর দর্পে –

লাল মাই যার ময়নামতী পাহারের ঢালে  আনন্দ বিহার বৌদ্ধ

সংস্কৃতির অপর্ব বিকাশ   — বাগেরহাটে ষাট গম্বুজ মসজিদ

ফরিদ পুরে সাতৌ্র মসজিদ , শাজালাল ( রহ ) খান জাহান আলি (রহ )

শাহ আলি বাগদাদি (রহ) পুণ্য সৃতি     ধর্ম পালের

ইতিহাসের অম্লান সাক্ষর  উয়ারী বটে শ্বর বাংলা আড়াই হাজার বছরের

ইতিহাস বিধৃত এই সেই বাংলা এই স্থানে  কত জন পদ কত সমৃদ্ধ নগরী

প্রায় সবই জলা ভুমির তলদেশে হাজারো কীতির জল ছবি পাণ্ডুর বিবর্ণ ।